Bangla pdf books

শেষ অধ্যায় নেই pdf download by সাদাত হোসেইন

নাম:- শেষ অধ্যায় নেই pdf download / shesh oddhay nei pdf download

লেখক:- সাদাত হোসেইন

সাইজ:- 12MB

শেষ অধ্যায় নেই বইটির প্রথম কিছু অংশঃ-       

সাদাত হোসেইন এ-র শেষ অধ্যায় নেই  বইটা হাতে নিয়ে তার সামনে গিয়ে আমার দাঁড়ানাের কথা ছিল। আমি তার চোখ দেখতে চেয়েছিলাম। দেখতে চেয়েছিলাম, বইটার উৎসর্গ পাতাটা খুলে সে কী করে?

যখন সে দেখবে, তার নামটা সেখানে জ্বলজ্বল করে জ্বলছে, ‘উৎসর্গ, মুনা আপু, তােমার মতাে কেউ নেই… তখন কী করবে সে?

আজ এই মুহূর্তে বইটার এই উৎসর্গ পাতায় তার নামটিই জ্বলজ্বল করছে। সেখানে লেখা~ ‘তােমার মতাে কেউ ছিল না…!

কারণ, মুনা আপু নেই। ফলে তার সেই বিস্ময়াভিভূত আর্দ্র চোখও আমার দেখা হলাে না। তবে বুকের ভেতর লেখা হতে থাকল এক সমুদ্র কান্নার গল্প।

কারাে মৃত্যু সহসা আমাকে বিচলিত করে না। কিন্তু এই মানুষটার মৃত্যু আমাকে এলােমেলাে করে দিয়েছে। সমূলে উৎপাটিত করে ফেলেছে। আমার প্রতিটা মুহূর্তে কেবল মনে হয়, এই বুঝি সে আমাকে ফোন করে বলবে, তুই আমার খোঁজ কেন নিবি? আমি তাের কে হই?

আপু, পৃথিবীতে কিছু অদ্ভুত অপার্থিব অনুভব থাকে, শব্দের সাধ্য নেই সেই অনুভব বােঝায়! তুমিও আমার কাছে তেমনই। আমার সাধ্য কী তা বােঝাই, এবং আবু শাহরিয়ার হিরক হিরক ভাইয়া, এক জনমে এমন কারাে দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। 

আমার সৌভাগ্য, জীবনের খরতাপ দহনের দিনে আপনার মায়াময় ছায়া আমায় প্রগাঢ় মমতায় আগলে রেখেছিল। পরম করুণাময় তাঁর মমতার ছায়া বিস্তৃত করে আগলে রাখুক আপনাকেও। তাঁর করুণার অবিরল ঝরনাধারায় স্নাত হােক আপনার দহনের দিন।

ভূমিকা

একটি ধারাবাহিক চরিত্র নির্মাণের ইচ্ছে থেকেই মূলত রেজা সিরিজের শুরু। তবে সেই শুরুটা ছিল দারুণ সংশয়পূর্ণ। এর মূল কারণ~ আমার অভ্যন্ত পরিসর বা কক্ষোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে এসে রহস্যোপন্যাস লেখার চেষ্টা। 

See also  একাত্তরের চিঠি pdf download | ekattorer chithi pdf download

যাকে আমি বরাবরই দুঃসাহসী চেষ্টা বলে স্বীকার করেছি। ফলে এই সিরিজের প্রথম উপন্যাস ‘ছদ্মবেশ লিখেছিলাম একদমই পরীক্ষামূলক হিসেবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই পরীক্ষায় পাঠক সম্ভবত আমাকে পাস মার্কস দিয়ে দিয়েছেন। 

কারণ প্রথম উপন্যাসের পর দিন যত গড়িয়েছে, ততই এর পরবর্তী উপন্যাসের দাবি উচ্চকিত হয়েছে। বিষয়টি একই সঙ্গে আনন্দ ও শঙ্কার। কারণ প্রথম বইটি নিয়ে কারােই কোনাে প্রত্যাশা ছিল না, কিন্তু দ্বিতীয় বইটি নিয়ে তা তৈরি হয়েছে। 

সমস্যা হচ্ছে, এই প্রত্যাশা পূরণের ভাবনা নিয়ে আমি লিখতে পারি না। কারণ লেখক হিসেবে আমি স্বতঃস্ফকূর্ত। আমার ইচ্ছের অধীন। সেই ইচ্ছে শেষ অবধি আমাকে দিয়ে শুধু আমার গল্পটিই লিখিয়ে নেয়। সেই গল্প কখনাে কখনাে অন্য সবার গল্পও হয়ে ওঠে, কখনাে কখনাে হয় না। শেষ অধ্যায় নেই আমার তেমনই একটি গল্প।

তবে লেখক হিসেবে লােভ হয়, আমার এই গল্পটিও অন্য সবার গল্প হয়ে উঠবে।

সাদাত হােসাইন ▪০৮.১০.২০২০ ▪শ্যামলী

শেষ রাতের ঘুমন্ত শহর। কোথাও কোনাে স্পন্দন নেই। চারপাশ নির্জন, নিস্তব্ধ। লেখক শফিক শাহরিয়ার চুপচাপ বসে আছেন বারান্দায়। তাঁর চোখে ঘুম নেই। সাধারণত বিশেষ কোনাে উপলক্ষ ছাড়া তিনি মদ পান করেন না।

আজ করেছেন। তাঁর ধারণা ছিল মদ পান করার কারণে রাতে তাঁর ভালাে ঘুম হবে। কিন্তু হয়নি। বরং সারা রাত তিনি জেগে ছিলেন। এই সময়ে কম করে হলেও কুড়িবার তিনি তাঁর স্ত্রী নাজনীনকে ফোন করেছেন। নাজনীন ফোন ধরেননি। 

এমনকি শেষ পর্যন্ত ফোনটাও বন্ধ করে রেখেছেন। নাজনীনের এই বিষয়টি নিয়ে শফিক প্রচণ্ড অস্থির হয়ে আছেন। সামান্য ভুলের জন্য তাঁর এতদিনের সংসার, গােছানাে জীবন পুরােটাই হঠাৎ এলােমেলাে হতে শুরু করেছে। 

নাজনীন বেশ কিছুদিন হলাে তাঁর বাবার বাড়িতে আছেন। যাওয়ার সময় বলে গেছেন তিনি আর ফিরছেন না। সঙ্গে করে তিনি তাঁদের একমাত্র কন্যা উষাকেও নিয়ে গেছেন।

শফিক চোখ থেকে চশমা খুললেন। তাঁর চোখ টকটকে লাল। মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি। মাথায় উস্কোখুস্কো চুল। তিনি শার্টের আস্তিনে চশমার কাঁচজোড়া মুছলেন। ভােরের আলাে ফুটতে শুরু করলেও সবকিছু কেমন ঝাপসা লাগছে তাঁর কাছে।

See also  হোমো স্যাপিয়েন্স রিটেলিং আওয়ার স্টোরি pdf download free

মনটা প্রচণ্ড অস্থির হয়ে আছে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি কিছুই লিখতে পারছেন না। অথচ তাঁর হাতে অনেক লেখার কাজ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই তাঁকে শেষ করতেই হবে। কিন্তু কোনােভাবে কোনাে কিছুতেই তিনি মনােযােগ বসাতে পারছেন না। শফিকের ফোন বাজছে। 

তিনি ঝট করে ফোনের দিকে তাকালেন। নাজনীন নয়, ফোন করেছে তৃণা। ফোনের স্ক্রীনে ১০ শেষ অধ্যায় নেই তৃণার টকটকে লাল গাউন পরা মােহনীয় এক ছবি ভেসে উঠেছে। মুহূর্তের জন্য হলেও সেই ছবিতে মুদ্ধ হয়ে গেলেন শফিক। 

যদিও তিনি নিজেই সেই মুগ্ধতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিলেন না। হাত বাড়িয়ে ফোনটা কেটে দিলেন। আপাতত এই মেয়ের সঙ্গে আর কথা বলতে চান না তিনি। এমনিতেই জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। তৃণা অবশ্য আরাে বারকয়েক ফোন করল। 

বিরক্ত শফিক চাইছিলেন ফোনটা বন্ধ করে দিতে। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে আসলাম আহমেদের ফোনটা এলাে। আসলাম আহমেদ তাঁর বইয়ের প্রকাশক। শফিক ফোন ধরতেই আসলাম বললেন, ‘এত ভােরে ফোন দেয়ার জন্য সরি শফিক ভাই।

কিন্তু… শফিক শাহরিয়ারের বুকটা ধক করে উঠল। আসলামের বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ সত্তরােধ্ব বৃদ্ধ মানুষ। নানাবিধ রোেগে আক্রান্ত। শফিকের জীবনে এই মানুষটির ভূমিকা অপরিসীম। তিনি উৎকষ্ঠিত গলায় বললেন, “কিন্তু কী? মহি চাচা ঠিক আছেন তাে আসলাম ভাই?

‘জি, ঠিক আছেন। তাহলে? না মানে গতরাত থেকে আব্বার শরীরটা একটু খারাপ। কতটা খারাপ?’ শফিকের গলায় শঙ্কা। আসলে রেগুলারই তাে এমন হয়। এই ভালাে, তাে এই মন্দ। কিন্তু আপনি তাে এবার বেশ কিছু দিনের জন্য ঢাকার বাইরে চলে যাচ্ছেন।

এই জন্য আব্বা বলছিলেন, যাওয়ার আগে যেন তার সঙ্গে একটু দেখা করে যান। আচ্ছা। বলেই ফোনটা কাটলেন শফিক। মহিউদ্দিন আহমেদ তাঁর কাছে ছায়ার মতাে। 

বিপদে-আপদে সবার আগে এই বৃদ্ধ মানুষটার কাছেই ছুটে যান শফিক। আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগে যখন তাঁকে কেউ চিনত না, জানত না, তখন এই মানুষটিই প্রথম তাঁকে বই প্রকাশের সুযােগ করে দিয়েছিলেন।

See also  আগুনপাখি pdf free download | agun pakhi pdf download

এখন বয়সের কারণে প্রকাশনার সঙ্গে নিজে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও শফিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা রয়েই গেছে। বরং এতবছরে সেই সম্পর্কটা আর লেখক- প্রকাশকের সম্পর্ক নেই। সেটি এখন অনেকটাই পিতা-পুত্রের সম্পর্কের মতাে হয়ে গেছে।

শফিক বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। দাঁড়াতে গিয়ে আচমকাই মনে হলাে মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠেছে। যেকোনাে সময় মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাবেন।

তাই আর দেরী না করে shesh oddhay nei pdf download / শেষ অধ্যায় নেই pdf download বইটি ডাউনলোড করুন। 

shesh oddhay nei pdf download / শেষ অধ্যায় নেই pdf বইটির হার্ড কফি ক্রয় করুন।      

Rokomari.com | boibazar.com

Ultra Next Gen

Best website for Bangla pdf download, Travel guides And many more. It’s the best website for this things

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!